Collage at a Glance

স্বাধীনতা উত্তরকালে তৎকালীন কুড়িগ্রাম মহুকুমায় নারী শিক্ষার প্রসারে কুড়িগ্রামের বরেণ্য শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় বর্তমানের স্বনামখ্যাত কুড়িগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭৩ সালের ১২ ডিসেম্বর কুড়িগ্রাম সাধারণ পাঠাগারে এ্যাডভোকেট আমান উল্যাহ্ আহমেদের আহবানে কুড়িগ্রাম শহরের প্রাণকেন্দ্রে একটি মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে প্রথম সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় তৎকালীন মহুকুমা প্রশাসক জনাব মোঃ মতিয়ার রহমানের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে কুড়িগ্রামের গুণীজন হিসেবে খ্যাত বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণযোগ্য। সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১৯৭৩ সালে শহরের কেন্দ্রস্থলে কলেজটির শুভ যাত্রা শুরু হয়। কলেজের কলেবর এবং লেখাপড়ার মান বিবেচনায় পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে কলেজটি জাতীয়করণ করা হয়। জাতীয়করণের পর থেকে সরকারি কলেজ হিসেবে কলেজটি ক্রমাগতভাবে সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এতদুদ্দেশ্য কলেজ কর্তৃপক্ষ শ্রেণি পাঠদানসহ পাঠক্রম বহির্ভূত কাজে গতিশীলতা আনয়নপূর্বক ছাত্রীদেরকে আগামী দিনের যোগ্য নাগরিক রূপে গড়ে তুলবার নিরন্তর প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। কলেজের সুশোভিত বৃক্ষের ছায়া সুশীতল, দৃষ্টিনন্দন ও নৈসর্গিক প্রাকৃতিক মনোরম দৃশ্য সহজেই সবার মনযোগ আকর্ষণ করে। কলেজের সময়োপযোগী প্রশাসনিক কার্যক্রমের ফলশ্রুতিতে নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকমন্ডলী ছাত্রীদের শিক্ষাদানের প্রতি যথেষ্ট যতœবান ও আন্তরিক। শিক্ষকমন্ডলীর অশ্রান্ত প্রচেষ্টার কারণেই কুড়িগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ সময়ের পরীক্ষায় ইতোমধ্যে গৌরবোজ্জ্বল স্থানে অধিষ্টিত। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার ফলাফলে কলেজটি সেরা বিশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা অর্জনের গৌরবে ভাস্বর। কলেজের সেরা ফলাফলের পেছনে এ কলেজের ২৯ জন শিক্ষকের ভূমিকা প্রশংসার দাবি রাখে। বর্তমানে কলেজটিতে প্রায় ১৮০০ জন ছাত্রী অধ্যয়নরত আছে। প্রফেসর প্রদীপ কুমার রায় কলেজটিতে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন এবং তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় কলেজে শিক্ষার সুন্দর পরিবেশ বিরাজ করছে।